জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ব্যক্তি বিশেষের অপরাধ বা দুর্নীতির কারণে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে সার্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এবং এর মালিকের পরিচয় সম্পূর্ণ আলাদা। ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপকর্মের জন্য আইনানুযায়ী বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা বহাল থাকবে, তবে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কাজ বন্ধ করা যৌক্তিক নয়।
সংসদে উত্থাপিত মূল আলোচনা ও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রধান তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রতিষ্ঠান চালু রাখার গুরুত্ব: অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মসংস্থান, ব্যবসায়িক দায় এবং অর্থনীতিতে নানাবিধ অবদান জড়িত। তাই মালিকের দুর্নীতির বিচার চললেও কোম্পানির উৎপাদন ও কার্যক্রম ব্যাহত হতে দেওয়া ঠিক নয়।
ঋণ পুনঃতফসিল ও নীতি: বাংলাদেশ ব্যাংক আইন মেনেই পুনঃতফসিলের সুবিধা দিচ্ছে। সুবিধা পাওয়ার যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো আইনের আওতায় এই সুবিধা পাবে, তবে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিচার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলবে।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ: অর্থমন্ত্রী জানান, গত ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংকে (৭৫,৩৯৬ কোটি টাকা)। এরপর যথাক্রমে অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অবস্থান।
জনগণের মাথাপিছু ঋণ: গত ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাবমতে, দেশে বর্তমানে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। সরকার রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় সাশ্রয় করে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
ভর্তুকি ও অন্যান্য বিষয়: অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার করেন যে কৃষি, খাদ্য ও বিদ্যুতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতের ভর্তুকি একযোগে তুলে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। সরকারের মূল অগ্রাধিকার হলো জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের সুফল রক্ষা করা।