ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর গ্রামের এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দীর্ঘ এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। ডিএনএ পরীক্ষায় কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে তার কোনো মিল না পাওয়ায় আদালত তাকে অব্যাহতি দিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাতে এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন ডা. মাহমুদা মিতু।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সমাজ একজন নির্দোষ মানুষকে ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। অভিযোগ ওঠার পর ইমাম মোজাফফর চাকরি হারান। এমনকি তার বাবাও, যিনি নিজেও একজন মসজিদের ইমাম, ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় সামাজিক চাপে চাকরি হারান।
মাহমুদা মিতু লিখেছেন, নিজের ওপর আনা অভিযোগ সহ্য করতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই ইমাম। মামলার চাপ, সামাজিক অপমান এবং আর্থিক সংকটে তিনি দেয়ালে মাথা ঠুকে আত্মহানির চেষ্টাও করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয় পোস্টে।
পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পরীক্ষায় দেখা যায়, কিশোরীর গর্ভের সন্তানের সঙ্গে অভিযুক্ত ইমামের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং কিশোরীর আপন ভাইয়ের সঙ্গেই ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য আরও জানান, ছোট ঘরে একসঙ্গে থাকার সুযোগে ওই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে মেয়েটির ভাই পরিকল্পিতভাবে ইমামের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন এবং তাকে বিয়েতে বাধ্য করার পরিকল্পনাও ছিল।
তিনি বলেন, নির্দোষ প্রমাণ করতে গিয়ে মোজাফফর আহমদকে ঋণ নিয়ে মামলা চালাতে হয়েছে। বর্তমানে তার মানসিক অবস্থাও স্বাভাবিক নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টে আরও বলা হয়, তারেক রেজা নামের একজন নেতার মাধ্যমে তার ঋণের কাগজপত্র যাচাই করে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শেষদিকে মাহমুদা মিতু প্রশ্ন তোলেন, সমাজে কত মানুষ এমন মিথ্যা অভিযোগের শিকার হন, যাদের অনেকেই নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ পান না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃত ভুক্তভোগীদেরও অনেক সময় ভয়, লজ্জা ও সামাজিক চাপে মুখ খুলতে দেখা যায় না।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ নির্দোষ ব্যক্তির মুক্তিকে স্বস্তিদায়ক বলছেন, আবার কেউ এমন সংবেদনশীল ঘটনায় যাচাই ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন।