চলমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের মানুষের সঙ্গে পুরোপুরি ইনসাফ বা ন্যায়বিচার করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, সরকার যদি সঠিক বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারত, তবে বর্তমান বাংলাদেশের চিত্র আরও ইতিবাচক ও ভিন্ন হতো।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি ‘ছায়াবাজেট’ প্রস্তাবনা উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনটির প্রস্তাবিত এই ছায়াবাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। ডা. শফিকুর রহমান জানান, মূলত জনগণের কল্যাণ, সুশাসন এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি মাথায় রেখেই তারা এই বাজেট তৈরি করেছেন।
বাজেট বাস্তবায়ন ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন:
সততা ও জবাবদিহিতা: তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সরকারের পক্ষেই শুধু বড় বাজেট দিলেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়, যদি না সেখানে সততা ও জবাবদিহিতা থাকে। দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধ করা না গেলে যেকোনো বাজেটই অকার্যকর হয়ে পড়ে।
নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ: বিগত নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হলেও নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল সঠিক হয়নি। এর ফলে জনগণের আসল প্রত্যাশার প্রতিফলন ফলাফলে দেখা যায়নি।
রাজস্ব ও কর ব্যবস্থার সংস্কার: দেশের বর্তমান কর (ট্যাক্সেশন) ব্যবস্থায় বেশ কিছু বড় ত্রুটি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, কার্যকর এবং জনবান্ধব করার তাগিদ দেন। একই সাথে অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) সাথে মিলিয়ে নেওয়ার একটি প্রস্তাব তারা সংসদে তুলবেন বলেও জানান।
বক্তব্যের শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যে ছায়াবাজেটটি পেশ করলাম, সেটির আসল বিচারক দেশের সাধারণ মানুষ। আমাদের এই প্রস্তাবনায় যদি জনস্বার্থ বিরোধী কিছু থাকে, তবে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আমাদের সংশোধন করতে সহযোগিতা করুন।”