৪৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদের ফলাফল দ্রুত প্রকাশের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বলছে, ফল প্রকাশের সব প্রস্তুতি শেষ হলেও আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট জটিলতা কাটলেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই ৪৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রার্থীদের কাছ থেকে পছন্দক্রম বা চয়েজ লিস্ট সংগ্রহ সম্পন্ন করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, পিএসসির অন্যান্য পরীক্ষার ফল নিয়মিত প্রকাশ হলেও ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারের বিষয়ে অস্বাভাবিক নীরবতা দেখা যাচ্ছে। এতে প্রার্থীদের মধ্যে নানা সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।
সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এই দীর্ঘসূত্রতা নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। প্রার্থীদের আশঙ্কা, এই অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্বেগজনক।
এরই মধ্যে ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারের পদ সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পিএসসির ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন করে ১৪২টি পদ যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ১২৪টি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ১৮টি পদ রয়েছে।
নতুন পদ যুক্ত হওয়ায় ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারে মোট পদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১১৯টিতে।
৪৪তম বিসিএসের ক্যাডার পদের ফলাফল ইতিমধ্যে তিন দফায় সংশোধন করে প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর প্রকাশিত সংশোধিত ফলাফলে ১ হাজার ৭১০টি পদের বিপরীতে ১ হাজার ৬৭৬ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। একই পদে একাধিকবার সুপারিশপ্রাপ্তদের বাদ দিয়ে এই সম্পূরক ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
ক্যাডার পদে সুপারিশ না পাওয়া ৭ হাজার ১৩৯ জন প্রার্থী বর্তমানে নন-ক্যাডারের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছেন। এই তালিকা থেকেই ৪ হাজার ১১৯ জনকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা।
চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা হলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর হবে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ফিরবে। এখন পিএসসির দিকেই তাকিয়ে আছেন হাজারো অপেক্ষমাণ প্রার্থী।