নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সুজনকে একটি বিদেশি রিভলবার ও সাত রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) ভোর রাতে বন্দর থানার চাঁনপুর এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, “বাংলাদেশ আমার অহংকার” স্লোগান ধারণ করে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চাঞ্চল্যকর অপরাধ দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, সুজন ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল এবং আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল। নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ হলে ঠিকাদার ও মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় ছিল নিয়মিত ঘটনা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাজ বন্ধ করে দেওয়া কিংবা মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত তার বাহিনী। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। সুজনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও বসতভিটা জোরপূর্বক দখলের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব জানায়, সুজনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বন্দর ও মদনপুর এলাকায় গড়ে ওঠে মাদক পাচারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের কেনাবেচা চলত তার বাহিনীর ছত্রছায়ায়। আধিপত্য বজায় রাখতে সে প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করত।
র্যাব-১১ সিপিএসসি-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে চাঁনপুর গ্রামে সুজনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় একটি বিদেশি রিভলবার ও সাত রাউন্ড গুলিসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তার সহযোগী মো. রুবেল (৩৫) নামের আরেকজনকেও আটক করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত সুজন (২৯) কানা মতিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও হত্যা মামলাসহ মোট ২২টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।