কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিতরণের অভিযোগে বিএনপির দুই কর্মীকে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেন বলে জানা গেছে। পরে তারা স্থানীয়দের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনাটি বুধবার সকালে গুনবতী ইউনিয়নে ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন।
অভিযুক্তরা হলেন আবদুল মান্নান ও ফকির মেম্বার। তারা কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদার সমর্থক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপের সঙ্গে নগদ অর্থ বিতরণ করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন। তবে কিছু সময় পর উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্টদের পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান জানান, বিষয়টি জানার পর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন।
অন্যদিকে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি সাজানো এবং রাজনৈতিকভাবে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।