রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মেট্রোরেলের নতুন ২ রুটে খরচ বাড়ছে দ্বিগুণেরও বেশি: নেপথ্যে যেসব কারণ! সততা ও জবাবদিহিতা ছাড়া বড় বাজেটও কার্যকর হবে না: ডা. শফিকুর রহমান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাকরির সুযোগ, পদ সংখ্যা ২৭টি বাংলাদেশ ব্যাংকে আইটি বিভাগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের শেষ সময় আজ শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে ট্রেইনি অফিসার পদে নিয়োগ, আবেদন চলছে ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত ফেনীর সেই ইমাম, ফেসবুকে যা লিখলেন সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু বন অধিদপ্তরে বড় নিয়োগ, ফরেস্টার পদে নেওয়া হবে ৩৮২ জন আইটি যোদ্ধাদের মে দিবসের শ্রদ্ধা জানালো গেটইনহোস্ট গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের মেয়ের বিয়েতে বিতর্কিত ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

জন্মদিনে ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেন মা, বাস্তব ট্র্যাজেডি নিয়ে তৈরি হলো সিনেমা ‘রোজমিড’

ডেস্ক রিপোর্ট / ৮০২ বার দেখা হয়েছে
তারিখ ও সময় মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ন

হলিউড সিনেমা রোজমিড শুধু একটি পারিবারিক মানসিক ট্র্যাজেডির গল্প নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক ভয়ংকর বাস্তব ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৯ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি অনুপ্রাণিত হয়েছে ২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রোজমিড শহরে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড থেকে।

ক্যানসারে আক্রান্ত এক মা নিজের মানসিকভাবে অসুস্থ ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন, এই আশঙ্কায় যে সে ভবিষ্যতে ভয়াবহ কোনো গণহত্যা ঘটাতে পারে।

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের গল্প পর্দায়

২০১৭ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস-এ প্রকাশিত সাংবাদিক ফ্র্যাঙ্ক শিয়ংয়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন হলিউড তারকা লুসি লিউ। তিনি অভিনয় করেছেন ‘আইরিন’ নামের এক এশীয়-আমেরিকান মায়ের চরিত্রে, যিনি সমাজের চোখ থেকে ছেলের সিজোফ্রেনিয়া রোগ গোপন রাখতে চান।

বাস্তব জীবনের মা লাই হ্যাং

সিনেমার পেছনের বাস্তব মানুষ লাই হ্যাংয়ের শৈশব কেটেছে লাওসে, কৈশোর হংকংয়ে। জাপানের টোকিওতে গ্রাফিক ডিজাইনে পড়াশোনা শেষে ১৯৯২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ক্যালিফোর্নিয়ার আলহামব্রায় স্বামী পিটারের সঙ্গে একটি প্রিন্টিং ব্যবসা শুরু করেন এবং সফলতার পর রোজমিডে বসবাস শুরু করেন।

১৯৯৮ সালে জন্ম হয় তাঁদের একমাত্র ছেলে জর্জের।

ন্যাশনাল মলে ট্রাম্প–এপস্টাইন ভাস্কর্য ঘিরে আলোচনা

বাবার মৃত্যু ও ছেলের মানসিক অবনতি

২০১২ সালে ক্যানসারে মারা যান জর্জের বাবা। এরপর থেকেই ছেলেটির আচরণে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। বন্ধুদের থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয় সে, ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয় এবং একপর্যায়ে তার সিজোফ্রেনিয়া ধরা পড়ে।

তবে এশীয়-আমেরিকান সমাজে মানসিক রোগ নিয়ে কথা বলাকে তখনো লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখা হতো। সামাজিক চাপের কারণে লাই হ্যাং একাই ছেলের অসুস্থতার ভার বইতে থাকেন।

ভয়, গুজব আর সামাজিক চাপ

সিনেমায় যেমন দেখানো হয়, বাস্তব জীবনেও লাই হ্যাং নানা গুজব ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির শিকার হন। ছেলের ওষুধ খাওয়াকে ঘিরে আশপাশে ছড়াতে থাকে নানা কুসংস্কার। এসব বিষয় মাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দেয়।

জর্জ হ্যালুসিনেশনে ভুগত, মৃত বাবাকে দেখত, অদৃশ্য কণ্ঠস্বর শুনত। স্কুলে গুলি চালানোর মহড়ার সময় সে আতঙ্কে পালিয়ে যেত। একপর্যায়ে জানা যায়, সে রাতের বেলায় স্কুল ভবনে ঢোকার চেষ্টা করত।

গণহত্যার আশঙ্কা

লাই হ্যাং সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত হন যখন দেখেন, ছেলে বিভিন্ন গণহত্যাকারী ও স্কুল শুটিংয়ের ঘটনা নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ দেখাচ্ছে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের চার্লস্টনে গির্জায় গুলি চালানোর ঘটনার পর তার ভয় চরমে পৌঁছে যায়।

ঠিক সেই সময়েই লাই হ্যাং জানতে পারেন, নিজের ক্যানসার আর কয়েক মাসের মধ্যেই জীবন কেড়ে নিতে পারে।

বন্দুক কেনার সিদ্ধান্ত

ছেলের ল্যাপটপে স্কুল শুটিং সম্পর্কিত ওয়েবসাইট, অস্ত্রের তথ্য, স্কুলের মানচিত্র ও অশুভ চিহ্ন দেখে লাই হ্যাং নিশ্চিত হয়ে যান, কিছু একটা ভয়াবহ ঘটতে পারে। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে তিনি একটি হ্যান্ডগান কেনেন। সিনেমায় দেখানো হয়, বন্দুকের দোকানে তিনি বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করেন, তার ছেলেকে চিনতে পারছেন কি না।

শেষ রাতের ট্র্যাজেডি

২০১৫ সালের ২৭ জুলাই। ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে লাই হ্যাং তাকে নিয়ে একটি মোটেলে ওঠেন, যেখানে তাদের পরিবারের সুখের স্মৃতি ছিল। সেখানেই ঘুমন্ত অবস্থায় ছেলের বুকে দুইবার গুলি করেন তিনি।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা ছেলের পাশে শুয়ে ছিলেন লাই হ্যাং। পরে পুলিশকে জানান, আত্মহত্যা না করে তিনি নিজের কাজের শাস্তি নিজেই ভোগ করতে চান।

কারাগার, হাসপাতাল ও মৃত্যু

গ্রেপ্তারের পর কারাগারে লাই হ্যাংয়ের শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়, শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বিচার শুরু হওয়ার আগেই মানবিক কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তার মৃত্যু হয়।

যে প্রশ্ন রয়ে যায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, লাই হ্যাংয়ের সামনে তখনও আইনি পথ খোলা ছিল। আদালতের মাধ্যমে ছেলেকে তত্ত্বাবধানে নেওয়া বা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু সামাজিক ভয়, মানসিক চাপ এবং সময়ের অভাব তাকে সেই পথে যেতে দেয়নি।

রোজমিড তাই শুধু একটি সিনেমা নয়। এটি মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক ট্যাবু এবং এক অসহায় মায়ের চরম সিদ্ধান্তের করুণ দলিল।


এই ধরণের আরো খবর...
Theme Created By M HOST BD.NET