বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবসরপ্রাপ্ত এক নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। টাকা ধার দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে ‘অতিথি সেজে’ বাড়িতে ঢুকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত শাহনাজ বেগম (৭০/৭১) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক–এর অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এক নারী ও এক তরুণ ‘মা-ছেলে’ পরিচয়ে শাহনাজ বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরিচিত মনে হওয়ায় তাদের আপ্যায়নও করা হয়। একপর্যায়ে শাহনাজ বেগমের পুত্রবধূ নামাজ পড়তে নিজ কক্ষে গেলে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ঘরে একা পেয়ে শাহনাজ বেগমের ওপর হামলা চালানো হয়।
পরে পুত্রবধূ নামাজ শেষে শাশুড়ির চিৎকার শুনে বাইরে বের হতে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পান এবং চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশীরা এসে ঘরে ঢুকে শাহনাজ বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় খাটে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ সুলতানা বেগম (৪৭) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি একই উপজেলার কুপা গ্রামের বাসিন্দা। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুলতানা স্বীকার করেছেন—ঋণের চাপে পড়ে তিনি ও তার ছেলে শাহনাজ বেগমের কাছে টাকা ধার চাইতে গিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষোভ থেকেই তারা হত্যাকাণ্ড ঘটান।
তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার সুলতানা বেগম আগে শাহনাজ বেগমের মেয়ের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেই পরিচয় কাজে লাগিয়েই তিনি সহজে বাড়িতে প্রবেশ করেন।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।